নেপাল- পাহাড়, মন্দির, ইতিহাস ও প্রকৃতির এক অপূর্ব মিশেল। বাংলাদেশ থেকে নেপাল ঘুরতে যাওয়া এখন খুবই সহজ। কারণ দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও সহজ ভিসা প্রক্রিয়া।
এই লেখায় জানবো, একজন বাংলাদেশি কীভাবে নেপালের ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে পারেন, কী কী কাগজপত্র লাগবে, কোথায় আবেদন করতে হবে, ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া কেমন, এবং কীভাবে ভিসার মেয়াদ বাড়ানো যায়।
✅ নেপালের ট্যুরিস্ট ভিসা পেতে হলে কী করতে হবে?
বাংলাদেশি নাগরিকরা চাইলে দুইভাবে নেপালের ট্যুরিস্ট ভিসা নিতে পারেন:
অন-অ্যারাইভাল ভিসা (Visa on Arrival)– নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা সীমান্ত চেকপোস্টে পৌঁছে সরাসরি ভিসা নেওয়া যায়।
প্রি-অ্যাপ্লায়েড ভিসা (Embassy Visa)– ঢাকায় অবস্থিত নেপালের দূতাবাসে আগে থেকেই আবেদন করে ভিসা নেওয়া যায়।
দুইটাই কার্যকর, তবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়।
অন-অ্যারাইভাল ভিসার জন্য পূর্বে থেকে অনলাইনে আবেদন করে গেলে ঝামেলা কম। সেক্ষেত্রে নেপাল এয়ারপোর্টে পৌঁছে দীর্ঘ লাইন ও ঝামেলা এড়ানো যায়। অনলাইনে ভিসা আবেদনের সময় কোনো ডকুমেন্টস আপলোড করতে হয় না। নেপাল পৌঁছানোর পর অনেক সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কাগজপত্র দেখতে চাইতে পারেন।
অনলাইনে নেপাল ভিসার আবেদন লিংক: https://nepaliport.immigration.gov.np/onlinevisa-mission/application
📄 যেসব কাগজপত্র লাগবে (দুই ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য):
পাসপোর্ট– অন্তত ৬ মাস মেয়াদ থাকতে হবে।
ভিসা ফি– সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ডলার (USD) নগদে থাকতে হবে।
এক কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (প্রয়োজন না থাকলেও সাথে রাখা ভালো)।
ফ্লাইট টিকিট– যাওয়ার ও ফিরে আসার (Return Ticket)।
হোটেল বুকিং বা থাকার প্রমাণ (হোটেল বুকিং কনফার্ম বুকিং না হলেও চলবে)।
নগদ টাকা বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট– নিজের খরচ চালানোর সামর্থ্য দেখানোর জন্য।
ভ্যাকসিনেশন সনদ (কোভিড-১৯)– সময়ভেদে লাগতে পারে।
💰 ভিসা ফি (Visa Fee):
বছরের প্রথমবার নেপাল ভ্রমণে বাংলাদেশীদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের ভিসা সম্পূর্ণ ফ্রি।
🛂 ইমিগ্রেশন ও প্রবেশপথ:
বিমান পথে:
ঢাকা থেকে সরাসরি কাঠমান্ডু (Tribhuvan International Airport) ফ্লাইট রয়েছে।
অন-অ্যারাইভাল ভিসা ডেস্কে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে ভিসা নেওয়া যায়। নেপাল এয়ারপোর্টে এসে ফর্ম পূরণের চেয় পূর্বে থেকে ফর্ম পূরণ করে আসা উত্তম। কারণ এয়ারপোর্টের কম্পিউটার বা নেটওয়ার্কে ঝামেলা করতে পারে। এছাড়া যাত্রীদের ভিড়ও থাকতে পারে। তাই ঝামেলা এড়াতে এই লিংকে অনলাইনে ভিসা ফর্ম পূরণ করে নিন। পূরণ করা ভিসা ফর্মের একটি পিডিএফ ডাউনলোড করে ফোনে রেখে দিতে পারেন। অথবা প্রিন্ট করেও রাখতে পারেন।
ভিসার জন্য আবেদন লিংক: https://nepaliport.immigration.gov.np/onlinevisa-mission/application
সড়ক পথে:
বাংলাদেশ থেকে ভারতের সড়কপথে গিয়ে সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করা যায়।
সেখানে সীমান্ত ইমিগ্রেশন অফিসে ভিসা পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে ভারতের ট্রানজিট ভিসা থাকা আবশ্যক। তবে বর্তমানে যেহেতু ভারতের ট্রানজিট ভিসা বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ রয়েছে তাই আকাশপথই একমাত্র ভরসা।
ভিসার মেয়াদ ও এক্সটেনশন (বর্ধিতকরণ)
প্রাথমিকভাবে ১৫, ৩০ বা ৯০ দিনের ভিসা দেওয়া হয়। যদি কেউ আরও থাকতে চান, তাহলে নেপালে অবস্থানকালীন Department of Immigration, Kathmandu থেকে ভিসা এক্সটেনশন করতে পারেন। প্রতি ৩০ দিন ভিসা নবায়নের জন্য ৯০ ইউএস ডলার ফি প্রদান করতে হবে। বছরে ৫ মাস নেপালে ভ্রমণ ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে অবস্থান করা গেলেও, বর্তমানে ৪ মাস পরই আর ভিসা নবায়ন করে দিচ্ছে না নেপাল কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও নেপালে অবস্থান করলে প্রতিদিনের জন্য গুণতে হবে ৮ মার্কিন ডলার জরিমানা।
✈️ সংক্ষেপে ট্যুরিস্ট ভিসা পাওয়ার ধাপ (Visa on Arrival)
১. অনলাইনে নেপাল ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করুন।
২. নেপালে পৌঁছান।
৩. ফি জমা দিন নির্ধারিত কাউন্টারে। (বছরের প্রথমবার ৩০ জন্য ফ্রি)
৫. ইমিগ্রেশন ডেস্কে পাসপোর্ট, ছবি ও প্রয়োজনীয় কাগজ দিন।
৬. ভিসা স্ট্যাম্প নিয়ে বের হয়ে পড়ুন কাঠমান্ডুর পথে!
গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর:
১/ বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে বোডিং এর সময় কনফার্ম এয়ার রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, পেশা সংক্রান্ত প্রমাণ, চাকুরিজীবী হলে ছুটির অফিশিয়াল প্রমাণ, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট, নগদ অথবা কার্ডে প্রয়োজনীয় ডলার অবশ্যই দেখতে চাইবে।
২/ বেশিরভাগ সময় নেপাল ইমিগ্রেশন যাত্রীর কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে সিল দিয়ে ফেরৎ দিয়ে দেয়। তেমন কোনো প্রশ্ন করে না। তবে ঝামেলা এড়ানোর জন্য যেকোন দেশে ভ্রমণের সময় কনফার্ম এয়ার রিটার্ন টিকিট, হোটেল বুকিং, পেশা সংক্রান্ত প্রমাণ, চাকুরিজীবী হলে ছুটির অফিশিয়াল প্রমাণ, ব্যবসায়ী হলে ট্রেড লাইসেন্স এর ফটোকপি, পাসপোর্টে ডলার এনডোর্সমেন্ট, নগদ অথবা কার্ডে প্রয়োজনীয় ডলার এবং ট্রাভেল আইটিনারি সাথে রাখুন। ইমিগ্রেশনে পৌঁছে আপনি শুধু পাসপোর্ট বাড়িয়ে দিবেন। এরপর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর দিন, কোনো ডকুমেন্টস চাইলে তা প্রদান করুন। আগবাড়িয়ে কোনো ডকুমেন্টস বা তথ্য প্রদানের প্রয়োজন নেই।
৩/ নেপালের কাঠমান্ডুতে অবস্থানকালে চাবাহিল বা রত্নাপার্ক হোটেল বুকিং করতে পারেন। এই দুই লোকেশন থেকে কাঠমান্ডুর সকল দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করা সহজ।
🔚 শেষ কথা:
নেপাল ভ্রমণের জন্য বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা পাওয়া খুব সহজ। শুধু প্রয়োজন সঠিক প্রস্তুতি আর কাগজপত্র। হিমালয়, পোখারা, লুম্বিনি—প্রকৃতি ও সংস্কৃতির অপার সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ নেপাল আপনাকে মুগ্ধ করবেই। ভ্রমণ করুন নিয়ম মেনে, নিরাপদে, এবং প্রাণভরে উপভোগ করুন!
নেপালে অল্প খরচে বেস্ট হোটেল বুকিং করতে এখানে ক্লিক করুন: Booking.com